অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত: লক্ষণ, কারণ ও চিকিত্সা
অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত বা “Abnormal Uterine Bleeding” বলতে সাধারণ মাসিকের সময় অতিরিক্ত বা অনিয়মিত রক্তপাত বোঝায়। এটি শুধু শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্য কমায় না, বরং রক্তক্ষরণের কারণে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কখনো কখনো দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যহত হয়। অস্বাভাবিক রক্তপাত বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে:
-
মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।
-
মাসিকের দৈর্ঘ্য বা ফ্রিকোয়েন্সি অনিয়মিত হওয়া।
-
মাসিকের মধ্যেও হঠাৎ রক্তপাত হওয়া।
-
মাসিকের সম্পূর্ণ অনিয়ম বা এক মাস ধরে রক্তপাত চলা।
অস্বাভাবিক রক্তপাতের সাধারণ কারণ
-
টিউমার:
-
ফাইব্রয়েড ও এডিনোমায়সিস: সাধারণত প্রজনন বয়সে দেখা যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ২৫ বছরেরও কম বয়সী মহিলাদেরও আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
-
-
পলিপ:
-
ইউটেরাসের ভিতরে বা সার্ভিক্সে থাকতে পারে।
-
শারীরিক চাপ বা যৌনমিলনের সময় রক্তপাত হতে পারে।
-
-
রক্ত সংক্রান্ত সমস্যা:
-
ব্লিডিং ডিসঅর্ডার বা রক্ত জমাট বাধার সমস্যা থাকলে।
-
-
হরমোনজনিত সমস্যা:
-
নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল না নেওয়া বা ইমার্জেন্সি পিলের ব্যবহার।
-
-
ক্যান্সার:
-
জরায়ু বা সার্ভিক্সের ক্যান্সার। সাধারণত ৩৫–৪৫ বছরের পর বেশি দেখা যায়।
-
পরীক্ষা ও নিরীক্ষা
অস্বাভাবিক রক্তপাতের কারণ নির্ধারণের জন্য কিছু পরীক্ষা করা হয়:
-
ট্রান্সভেজাইনাল আল্ট্রাসনোগ্রাফি: জরায়ুর ভিতরে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
-
CBC ও হিমোগ্লোবিন: রক্তের ঘাটতি চিহ্নিত করতে।
-
কোঅগুলেশন প্রোফাইল: রক্ত জমাট বাধার সমস্যা আছে কিনা।
-
সোনোগ্রাফি ও হিস্ট্রোস্কপি: পলিপ বা এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লেসিয়া শনাক্ত করতে।
-
ক্যান্সার স্ক্রিনিং: সার্ভিক্স ক্যান্সার চেকের জন্য বায়োপসি, প্যাপস্মিয়ার বা HPV DNA টেস্ট।
চিকিৎসা ও প্রতিকার
-
হরমোনাল ওষুধ:
-
কমবাইনড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল।
-
প্রজেস্টরন হরমোন (নরথিস্ট্রন বা ইনজেক্টেবল প্রজেস্টরন)।
-
এন্টিফিব্রিলটিক ওষুধ (ক্রেনিজামিক অ্যাসিড) রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে।
-
-
সার্জারি:
-
পলিপেক্টমি: হিস্টেরোস্কপি গাইডেড পলিপ অপসারণ।
-
হিস্টেরোস্কপি: এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লেসিয়া বা অন্যান্য অস্বাভাবিকতা চেক ও ম্যানেজ করতে।
-
হিস্টেরেকটমি: বড় বা বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে যেখানে প্রজনন কাজ শেষ, ল্যাপারোস্কপিক বা টোটাল এ্যাবডোমিনাল পদ্ধতিতে করা যায়।
-
-
ক্যান্সার চিকিৎসা:
-
সার্জারি বা অনকোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
-
শেষ কথা
গ্রাম বা শহরে, চাকরি বা দৈনন্দিন জীবনেও অস্বাভাবিক রক্তপাত অনেক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো ডাক্তারের পরামর্শ নিলে জরায়ু সংরক্ষণ করে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব। ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি বা অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসা সহজ।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply