চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
খাবার ও পুষ্টি

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: মা ও শিশুর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

Protikar২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়া
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: মা ও শিশুর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস শুধুমাত্র মায়ের স্বাস্থ্যকেই প্রভাবিত করে না, বরং গর্ভের শিশুর উপরেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি গর্ভাবস্থার শেষ ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ডায়াবেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তখন শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে শিশুর ওজন অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়, যা ‘ম্যাক্রোসোমিয়া’ (Macrosomia) নামে পরিচিত।

ম্যাক্রোসোমিয়ার ঝুঁকি ও প্রভাব
ম্যাক্রোসোমিয়া হলে শিশুর ওজন বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনেক সময় সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজন হয়, যা মা ও শিশুর জন্য এক ধরণের ঝুঁকি বহন করে। এছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শিশুর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকে, যা নতুন শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য জটিলতা যেমন শ্বাসকষ্ট, পুলমোনারি হাইপারটেনশন ইত্যাদিও দেখা দিতে পারে।

মায়ের জন্য ঝুঁকি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের গর্ভাশয়ে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়, যাকে ‘অ্যামনিওটিক ফ্লুইড’ (Amniotic fluid) বলা হয়। অতিরিক্ত পানির সঞ্চয় ‘পলি হাইড্রোমিনিয়াস’ (Polyhydramnious) নামে পরিচিত। এটি গর্ভবতী মায়েদের উচ্চ রক্তচাপ, একলাম্পশিয়া বা খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যা মায়ের ও শিশুর জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (GDM) ও এর গুরুত্ব

গর্ভাবস্থার আগেও ডায়াবেটিস না থাকা নারীদের মধ্যে প্রায় ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus – GDM) ধরা পড়তে পারে। এই সময় যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে শিশুর জন্মের পর নানা জটিলতা দেখা দেয়। এমনকি গর্ভেই শিশুর মৃত্যু ঘটার ঘটনাও রয়েছে। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নির্ণয় পদ্ধতি
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস শনাক্ত করার জন্য ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্ট টেস্ট (OGTT) করা হয়। এই পরীক্ষা সাধারণত গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষা শুরু করার আগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা উপবাস করতে হয়। প্রথমে রক্তের নমুনা নেয়া হয়, এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্লুকোজ পান করানো হয়। এরপর দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করে শরীরের গ্লুকোজ পরিচালনা ক্ষমতা পরিমাপ করা হয়।

যদি প্লাজমা গ্লুকোজের মাত্রা ৫.৬ মিমোল/এল বা তার বেশি থাকে, অথবা দুই ঘণ্টার প্লাজমা গ্লুকোজ ৭.৮ মিমোল/এল বা তার বেশি হয়, তাহলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচিত হয়।

করণীয় ও পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ বা ইনসুলিন প্রয়োগ করা হতে পারে।
নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটরিং ও ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
সিজারিয়ান সেকশনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস মা ও শিশুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জীবনহানির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অপরিহার্য। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *