ঘন ঘন মুড সুইং? সমস্যার গোড়া লুকিয়ে থাকতে পারে ঘুমের ঘাটতিতে
ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তনের পেছনে মানসিক চাপ, হতাশা, উদ্বেগ, অবসাদ, মাদক সেবন কিংবা হরমোনজনিত নানা কারণ কাজ করতে পারে। তবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—ঘুমের ঘাটতি।
ঘুম একটি প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা শরীরকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে—প্রয়োজনীয় স্মৃতি সংরক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য বর্জন। তাই প্রতিদিনের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য নিরবিচারে ঘুম অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত সাত ঘণ্টা গভীর ও নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা কম সময় ঘুম হওয়ায় শরীরে ক্লান্তি ভর করে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং দিনভর বিষণ্ণতা ঘিরে ধরে।
ঘুমের ঘাটতি যেসব সমস্যার জন্ম দিতে পারে—
● ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতি:
যথেষ্ট ঘুম না হলে শরীর চাঙ্গা হয় না। ঘুম থেকে উঠেও মনে হয় যেন বিশ্রাম হয়নি। কোনো কাজে মন বসে না, ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। শরীরে ব্যথা-বেদনা দেখা দিতে পারে।
● ওজন বৃদ্ধি:
ঘুমের ঘাটতি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। এতে ক্ষুধা বেশি পায় এবং শরীরে চর্বি জমার হার বেড়ে যায়। ফলে ওজন দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
● ত্বকের সমস্যা ও ব্রণ:
ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ব্রণসহ নানা ত্বকের সমস্যা তৈরি করে। হঠাৎ মুখে ব্রণ হলে ঘুমের পরিমাণ ও মান যাচাই করা জরুরি।
● মুড সুইং:
ঘুম পর্যাপ্ত না হলে মন-মেজাজ খারাপ থাকতে পারে, ক্ষেপে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা ও হতাশা গভীরতর হতে পারে।
ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন—
-
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন।
-
রাতে কফি, চা বা অতিরিক্ত ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
-
ঘুম না এলে বিছানায় পড়ে না থেকে পায়চারি করতে পারেন বা হালকা বই পড়ুন।
নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শুধু মুড সুইং নয়, আরও অনেক শারীরিক-মানসিক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই ঘুমকে অবহেলা নয়, বরং জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply