চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
অন্যান্য

ত্বকে দাদ কেন হয়? জেনে নিন আসল কারণ ও করণীয়

Dr SM Farhad২৫ মে ২০২৬ · ৩ মিনিট পড়া
ত্বকে দাদ কেন হয়? জেনে নিন আসল কারণ ও করণীয়

দাদ বা দাউদ কেন হয় এবং এর করণীয় কী?

বর্তমান সময়ে চর্মরোগীদের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চহারে যে সংক্রমণটি দেখা যায়, সেটির নাম হলো দাদ বা দাউদ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডার্মাটোফাইট (Dermatophyte)। এটি মূলত ত্বকের অত্যন্ত সাধারণ এবং পরিচিত একটি ছত্রাকজনিত (Fungal) সংক্রমণ। এই ছত্রাকটি আমাদের ত্বকের একেবারে উপরের অংশে আক্রমণ করে থাকে।

দাদ একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সঠিক সময়ে এর সঠিক চিকিৎসা না করলে এটি পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দাদ বা দাউদ কেন হয় এবং কাদের বেশি হয়?

এই রোগটি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে-শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সবাই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রধান যে কারণগুলোর জন্য দাদ হয়, সেগুলো হলো:

  • ছত্রাকের সংস্পর্শ: কোনোভাবে যদি আমাদের শরীর এই ডার্মাটোফাইট নামক ছত্রাকের সংস্পর্শে আসে, তবেই এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
  • ছেঁতছেঁতে ও ভেজা পরিবেশ: শরীরের যেসব জায়গায় সাধারণত বেশি ঘাম হয় বা জায়গাটি ভেজা ও ছেঁতছেঁতে থাকে (যেমন: কুচকি, আঙুলের ফাঁক বা বগল), সেখানে এই ছত্রাক খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
  • ছোঁয়াচে মাধ্যম: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে বা বিছানা অন্য কেউ ব্যবহার করলে এটি সহজে ছড়ায়। এছাড়া একই সাথে অনেকে গাদাগাদি করে বসবাস করলেও এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমে গেলে এই ছত্রাক সহজে আক্রমণ করতে পারে।

লক্ষণগুলো কেমন হয়?

  • প্রথমে শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশে ছোট একটি দানার মতো চুলকানি শুরু হয়।
  • অনবরত চুলকানোর ফলে আস্তে আস্তে আক্রান্ত স্থানটি বৃত্তাকার বা গোল চাকার মতো লালচে আকার ধারণ করে বড় হতে থাকে।
  • চাকার চারপাশটা কিছুটা উঁচু ও খসখসে হয় এবং মাঝখানের চামড়া তুলনামূলক স্বাভাবিক দেখায়।

দাদ হলে কী করবেন এবং কেন এটি এখন বিপজ্জনক?
বর্তমানে দাদ একটি মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগে পরিণত হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর অপচিকিৎসা। দাদ হলে মানুষ সাধারণত বিভ্রান্ত হয়ে কিছু ভুল পদক্ষেপ নেন, যা একদমই করা উচিত নয়:

১. রাস্তার মোড়ের বা ফার্মেসির মলম পরিহার করুন: আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে আশেপাশের ফার্মেসি বা রাস্তার মোড়ে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ক্ষতিকারক ও স্টেরয়েডযুক্ত মলম এনে ব্যবহার করেন।

২. ভুল ওষুধের কুফল: এসব ভুল মলম ও ওষুধ ব্যবহারের ফলে সাময়িকভাবে চুলকানি কমলেও দাদ মোটেও ভালো হয় না। উল্টো ছত্রাকটি আরও শক্তিশালী হয়ে চামড়ার গভীরে বিস্তার লাভ করে। এর ফলে রোগীরা বছরের পর বছর এই রোগে কষ্ট পান এবং রোগটি সাধারণ থেকে মারাত্মক ক্রনিক ইনফেকশনে রূপ নেয়।

সঠিক করণীয়

  • বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন: দাদের লক্ষণ দেখামাত্রই কোনো ওটিসি (OTC) বা আন্দাজে মলম ব্যবহার না করে দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (Dermatologist) দেখান।
  • কোর্স সম্পূর্ণ করুন: চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ও মলম নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করুন। অনেক সময় চুলকানি কমে গেলেও ভেতরে ছত্রাক থেকে যায়, তাই কোর্স শেষ করা জরুরি।
  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: শরীর সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরুন এবং নিজের ব্যবহৃত তোয়ালে বা পোশাক অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

মূল কথা: দাদ বা দাউদ কোনো চিরস্থায়ী রোগ নয়। শুরুতে কোনো অপচিকিৎসার আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে সঠিক নিয়মে চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *