থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন কি? জেনে নিন ১০টি সাধারণ উপসর্গ
থাইরয়েড একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি, যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আয়োডিনের ঘাটতির কারণে এই গ্রন্থির কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, থাইরয়েডের প্রধানত দুটি রূপ রয়েছে—হাইপোথাইরয়ডিজম এবং হাইপারথাইরয়ডিজম।
হাইপোথাইরয়ডিজমে শরীরে হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এবং ব্যক্তি মোটা হয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে, হাইপারথাইরয়ডিজমে হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়, এতে ওজন হ্রাস পায় এবং শরীর শীর্ণ ও রুক্ষ হয়ে যায়।
ভারতের এক প্রতিবেদনে থাইরয়েড সমস্যার কিছু সাধারণ উপসর্গ তুলে ধরা হয়েছে—
থাইরয়েড গ্লান্ড অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়লে গলা ফুলে গিয়ে নিচের দিকে ঝুলে যেতে পারে। এতে রোগীর গলায় অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হয়।
শরীরে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ হলে হাত-পা ঘেমে যায় এবং প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়।
পরিপাকতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে—রোগীর খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বৃদ্ধি পেলেও ওজন কমতে থাকে।
ঘন ঘন পায়খানা হওয়া, হজমের সমস্যা ইত্যাদিও থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত অবসাদে ভোগেন।
ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, চুল পড়া শুরু হয় এবং ক্ষুধা কমে যায়।
ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শীত অনুভব, কোষ্ঠকাঠিন্য, রাগ বাড়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মাসিক চক্রের অস্বাভাবিকতা, হাত কাঁপা ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।
অনেক সময় বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দেয় এবং গর্ভধারণকালীন সময়ে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। শিশু কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত হলে তার মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
থাইরয়েড সমস্যায় দীর্ঘদিন ডিপ্রেশন বা হতাশায় ভোগার প্রবণতাও থাকে। এতে শরীর ও মনের ওপর চাপ বাড়ে।
চূড়ান্তভাবে ক্লান্তিবোধ, ঘুম ঘুম ভাব, দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা ও চোখে সমস্যার মতো উপসর্গও দেখা যায়।
তবে এসব উপসর্গের পাশাপাশি থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয়ে সুনির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply