চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
খাবার ও পুষ্টি

নকল ওষুধের ভয়াল ছায়া: আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

Protikar২৮ মে ২০২৫ · ২ মিনিট পড়া
নকল ওষুধের ভয়াল ছায়া: আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী চক্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এসব বিপজ্জনক ওষুধ। ফলে চিকিৎসক সমাজ এবং সাধারণ রোগীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে ভেজালের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, অনেক চিকিৎসক বাধ্য হয়ে সেসব ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছেন কিংবা সীমিত করছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ‘অ্যালবুমিন ইনজেকশন’। অস্ত্রোপচার কিংবা গুরুতর দুর্ঘটনার পর রক্তে প্লাজমার ঘনত্ব বাড়াতে ব্যবহৃত এই ওষুধটির নকল সংস্করণ বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকেরা তা ব্যবহারে প্রবলভাবে সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

এই ওষুধ নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বেড়েছে আরও একটি কারণেই—গত বছর সিলেটে এক রোগীর মৃত্যুর পর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধটি ব্যবহারের পর রোগীদের শরীরে জটিলতা দেখা দেয়। পরীক্ষাগারে পাঠানোর পর জানা যায়, সংশ্লিষ্ট অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশনগুলো নকল ছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এই নকল ওষুধগুলো দেখতে এতটাই আসলের মতো যে, খালি চোখে পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টরাও তাৎক্ষণিকভাবে নকল চিহ্নিত করতে পারছেন না, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

একজন অভিজ্ঞ অধ্যাপক, যিনি দেশের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন, জানান—অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশনের ভেজালের মাত্রা এতটাই বেশি যে, এখন তারা ওষুধটি প্রায় ব্যবহারই করছেন না। তার ভাষায়, “সাধারণ মানুষ তো কিছুই বুঝতে পারে না, আমরা ডাক্তাররাই পারি না আসল-নকল ধরতে। দেখতে একদম এক।”

এদিকে, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র। গবেষণায় দেখা যায়, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই বাজারে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রায় ১০ শতাংশই নকল, ভেজাল বা নিম্নমানের। রাজধানীর বাইরের চিত্র আরও ভয়াবহ—কোনো কোনো স্থানে আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি ট্যাবলেট বাজারজাত করার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের আরোগ্য লাভের পরিবর্তে জটিলতা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। গবেষণার ফলাফল দেশের স্বাস্থ্যখাতের মান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালে ওষুধ ও কসমেটিক আইন পাস করে, যেখানে নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ওই আইনে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উল্লেখযোগ্য নজির দেখা যায়নি। ফলে আইনের প্রয়োগ এবং বাজার নজরদারির অভাবেই ক্রমশ বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *