চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
খাবার ও পুষ্টি

পুষ্টিগুণে ভরপুর আম: কীভাবে, কখন ও কতটুকু খাবেন নিরাপদে?

Protikar২২ জুন ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়া
পুষ্টিগুণে ভরপুর আম: কীভাবে, কখন ও কতটুকু খাবেন নিরাপদে?

বাজারে এখন মৌসুমি নানা ফলে সয়লাব হলেও আমের জনপ্রিয়তা সব সময়ই শীর্ষে। রসে, গন্ধে আর স্বাদে অতুলনীয় এই ফলটি পুষ্টির দিক থেকেও কম যায় না। তবে অনেকেই জানেন না, আমের মতো সুস্বাদু ফলও খেতে হয় হিসেব করে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে খেলেই বিপদ হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য।

খোসা ও আঁটি ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আমে পাওয়া যায় ৬৫ থেকে ৭৫ ক্যালরি, প্রায় ১৭ গ্রাম শর্করা, ১৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১.৫ মিলিগ্রাম লৌহ, এবং ২২০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ভিটামিন-এ। এ ছাড়াও রয়েছে প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৬০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম এবং ১২ মিলিগ্রাম লাইকোপেন।

তুলনামূলকভাবে, ১০০ গ্রাম ভাতে থাকে প্রায় ১২৫ ক্যালরি ও ২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। অর্থাৎ ক্যালরির দিক থেকে ভাত আমের চেয়ে বেশি হলেও, অন্যান্য পুষ্টিগুণে আম এগিয়ে। তাই ভাতের পরিবর্তে পরিমিত আম খাওয়া যেতে পারে—যা রক্তে ক্যালরি ও শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে অনেকেই প্রধান খাবারের পর কিংবা নাশতায় আম খেয়ে থাকেন। অনেকে আবার রুটি, দুধ-ভাত বা মুড়ির সঙ্গে আম খাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তুলেছেন। অথচ এসব খাবার নিজেই কার্বোহাইড্রেটে পরিপূর্ণ। তার সঙ্গে আম যোগ হলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

তাহলে কতটুকু আম খাওয়া নিরাপদ?
যদি কোনো ব্যক্তির নাশতায় ৭০ গ্রাম রুটি, একটি ডিম এবং এক বাটি সবজি থাকে, তবে সেই একই পরিমাণ ক্যালরির পরিবর্তে তিনি খোসা ও আঁটি ছাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম আম খেতে পারেন—যা প্রায় দুই থেকে তিনটি মাঝারি আকারের আমের সমান। তবে এক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্করা জাতীয় খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে।

অনেকের ধারণা খালি পেটে আম খাওয়া গ্যাস্ট্রিকের কারণ হতে পারে, তবে এটি ভুল ধারণা। আম মধ্য সকালে কিংবা বিকেলের নাশতায় খাওয়া যায় নির্ভার মনে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

  • আম খেলে ভাত বা রুটির মতো প্রধান শর্করা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।

  • মধ্য সকাল কিংবা বিকেলে অল্প পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে।

  • আমের সঙ্গে অন্য কোনো খাবার খাবেন না—যেমন রুটি, মুড়ি বা ভাতের সঙ্গে আম নয়।

  • বিকেলের পর আম না খাওয়াই ভালো।

  • জুস করে না খেয়ে টুকরা করে চিবিয়ে খেতে হবে।

  • রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগীদের আম খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

  • কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আম খেতে হবে।

  • যারা ওজন কমাতে চান, তাদের আম খাওয়ার সময় দিনের অন্য শর্করা খাবার কমিয়ে নিতে হবে।

  • শিশুদের জন্য বয়স, ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী আমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

সতর্কতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে আম খেলে এটি শুধু স্বাদের আনন্দই নয়, হতে পারে আপনার শরীরের জন্য এক পরিপূর্ণ পুষ্টির উৎস।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *