বাত কমাতে চান, জেনে নিন উপায়
গেঁটে বাত বা গাউট হলো এমন এক ধরনের প্রদাহজনিত বাত, যা রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমে গাঁটে স্ফটিক তৈরি হওয়ার কারণে ঘটে। এটি শরীরের যে কোন জয়েন্টে, বিশেষত পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে। এই রোগে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে গেঁটে বাত কমাতে সাহায্য করতে পারেন:
খাবার যেগুলো খেতে হবে:
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: আমলকি, পেয়ারা, লেবু, কমলা, কিউই, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, পেঁপে— এই ফলগুলিতে ভিটামিন সি রয়েছে, যা ইউরিক অ্যাসিড নিঃসরণে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমায়।
আনারস ও আপেল: আনারসে থাকা ব্রোমেলিন প্রদাহ কমায় এবং ব্যথা প্রশমিত করে। আপেলের মেলিক অ্যাসিড এবং অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের অ্যাসিটিক অ্যাসিড লিভারের পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।
লো-ফ্যাট প্রোটিন: ডিমের সাদা অংশ, টক দই, কাঠবাদাম এবং দেশি নদীর মাছ (যেমন রুই, কাতল) কম পিউরিনযুক্ত এবং প্রোটিন সরবরাহ করে, যা ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আঁশযুক্ত খাবার: লাউ, পেঁপে, গাজর, করলা, কুমড়া এবং শাকসবজি অন্ত্রে ইউরিক অ্যাসিড শোষণ কমাতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি: দিনে অন্তত ১২ গ্লাস পানি পান করে ইউরিক অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ান এবং গাঁটে স্ফটিক জমা প্রতিরোধ করুন।
স্বাস্থ্যকর চর্বি ও মসলা: অলিভ অয়েল, সরিষার তেল, কাঠবাদাম, আদা, রসুন, হলুদ, গোলমরিচ— এসব প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
যেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে:
লাল মাংস, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি, ছোলা, রাজমা, সয়া প্রোডাক্ট।
ইস্ট ও ফ্রুকটোজযুক্ত খাবার (পাউরুটি, কেক, কোমল পানীয়, চকলেট)।
উচ্চ পিউরিনযুক্ত সবজি (পুই, পালং শাক, মটরশুঁটি, মাশরুম)।
প্রসেসড ফুড, ট্রান্স ফ্যাট ও ইনস্ট্যান্ট রেডি-টি ইট মিল।
মদ, বিয়ার, তামাক ও ধূমপান।
সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন:
কলা, আম, কাঁঠাল, সাদা চালের ভাত, নুডলস, পাস্তা ইত্যাদি উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার।
জীবনযাপনে পরিবর্তন:
প্রতিদিন ২০ মিনিট রোদে থাকুন— ভিটামিন ডি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন— রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং হাঁটা করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন— অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
গেঁটে বাত কমাতে খাদ্যাভ্যাস, পানি পানের পরিমাণ, সঠিক ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply