হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে করণীয়
প্রত্যেকের জীবনে কখনো না কখনো বুকে সামান্য ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। অনেক সময় একে অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে অ্যান্টাসিড সেবন করে নিশ্চিন্ত হওয়া হয়। কিন্তু অনুমানের ভিত্তিতে বুকের ব্যথার সমাধান করা ঠিক নয়। হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে কী করণীয় তা জানা না থাকার কারণে অনেক সময় ভয়াবহ পরিস্থিতি যেমন হার্ট অ্যাটাকের মুখোমুখি হতে হয়।
বুকে ব্যথা হলে প্রথম করণীয়
-
প্রথমেই ব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।
-
বুকের ব্যথার অসংখ্য কারণ থাকতে পারে এবং প্রতিটির জন্য চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে।
-
বর্তমান সময়ে হৃদরোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
-
তাই ব্যথাকে শুধুমাত্র অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা না করে সতর্ক থাকতে হবে।
-
বিশেষ করে চিনচিনে বা চাপযুক্ত ব্যথা অনুভূত হলে তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
বুকে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ
-
মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন: হার্টে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
-
মায়োকার্ডাইটিস: হৃদপেশিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
-
পেরিকার্ডাইটিস: হার্টের থলিতে প্রদাহ হয়ে তীব্র ব্যথা হয়।
-
করোনারি আর্টারি ডিজিজ: হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে ব্লকেজ তৈরি হয়।
-
মাইট্রাল ভালভ প্রল্যাপস: মাইট্রাল ভালভ সঠিকভাবে বন্ধ হয় না।
-
এওর্টিক বিচ্ছেদ: হৃদপিণ্ডের প্রধান ধমনী এওর্টা ছিঁড়ে যাওয়ার বিরল অবস্থা।
-
ব্রঙ্কোস্পাজম: হাঁপানি ও সিওপিডি রোগীদের ফুসফুস সংকোচন সমস্যা।
-
অ্যাসিড রিফ্লাক্স: অম্বলের কারণে বুকে প্রদাহ অনুভূত হয়।
-
পালমোনারি এমবোলিজম: ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
হৃদরোগ ব্যতীত বুকে ব্যথার অন্যান্য কারণ
-
অ্যাসিডিটি: তেল-মশলা বা ভাজাভুজি খাবারের কারণে বুকে প্রদাহ ও জ্বলুনি।
-
খাদ্যনালীর সমস্যা: খাবার গিলতে অসুবিধার কারণে ব্যথা।
-
এফর্ট এনজাইনা: অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
-
ফুসফুস সংক্রমণ: বর্ষাকালে ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে বুকে ব্যথা হয়।
-
পাঁজরের সমস্যা বা আঘাত: হাড়ের আঘাত বা ব্যথার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
-
ভয় বা দুশ্চিন্তা: প্যানিক ডিজঅর্ডারের ফলে বুক ধড়ফড় ও ব্যথা হতে পারে।
হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার লক্ষণসমূহ
-
আচমকা তীব্র টান বা চাপ অনুভব।
-
প্রচণ্ড ব্যথা, চিনচিনে ব্যথা বা হাঁসফাঁস করে নিঃশ্বাস নেয়ার সমস্যা।
-
ব্রেস্টবোন এলাকায় চাপা অনুভূতি, ব্যথা হাত, চোয়াল ও পিঠে ছড়িয়ে পড়া।
-
মাথা ঘোরা ও অতিরিক্ত দুর্বলতা।
-
রক্তচাপ বা হার্ট রেট কমে যাওয়া।
-
কাশি বা জোরে শ্বাসের সময় পিঠে ব্যথা।
-
মুখে টক স্বাদ অনুভব।
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাঁটার শক্তি হারানো।
উল্লেখিত লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে প্রাথমিক করণীয়
-
ডিসপিরিন সেবন: চিনচিনে ব্যথা থাকলে ৩০০ মি.গ্রা. অ্যাসপিরিন বা ডিসপিরিন খাওয়া যেতে পারে।
-
নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে ব্যবহার: হার্টের ব্যথার ক্ষেত্রে মুখের ভেতর স্প্রে করে তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়।
-
কোল্ড প্যাক: টান পড়া ব্যথা হলে বরফের প্যাক ব্যবহার করে ব্যথা কমানো যায়।
-
শুয়ে থাকা: মাথা সামান্য উঁচু করে বিশ্রাম নিন, যাতে ঘাড়ে চাপ না পড়ে।
-
চিকিৎসা পরীক্ষা: ইসিজি, বুকের এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদি করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
-
ধূমপান এড়িয়ে চলা: ধূমপান ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
-
কাউকে অবস্থা জানান: অন্য কাউকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিন।
পরিশেষে
বুকে ব্যথাকে অবহেলা করলে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ছাড়াও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। যদি হৃদরোগ ধরা পড়ে, তাহলে অবশ্যই খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান পরিহারসহ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমান সময়ে হৃদরোগের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি, তাই কোনো অবস্থাতেই বুকে ব্যথাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply