একটানা ঘুম না হলে মাথা ধরছে, চোখ ভারী – এটা কি নিউরো সিগন্যাল?
অনেকেরই অভিযোগ থাকে যে ঠিকমতো ঘুম না হলে মাথা ভারি ভারি লাগে বা ঘুম থেকে উঠেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আবার কারো ক্ষেত্রে এই মাথা ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে সারাদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হয়ে পড়ে। তাহলে প্রশ্ন হলো, ঘুমের সমস্যার সাথে মাথা ব্যথার কি সত্যিই কোনো সম্পর্ক আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর উত্তর হলো হ্যাঁ, ঘুমের সাথে মাথা ব্যথার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
যখন আমাদের ঘুম পর্যাপ্ত হয় না বা ঘুম বারবার ভেঙে যায়, তখন একে বলা হয় স্লিপ ডিস্টারবেন্স বা ইনএডিকুয়েট স্লিপ। অর্থাৎ আপনি হয় কম সময় ঘুমাচ্ছেন, নয়তো ঘুমাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু ঘুমটি গভীর হচ্ছে না। এই অবস্থায় আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি রিলাক্স হওয়ার সুযোগ পায় না। ব্রেনের ভেতরে যে ভালো কেমিক্যালগুলো তৈরি হওয়ার কথা, সেগুলোর পরিমাণ কমে যায় এবং যে খারাপ কেমিক্যালগুলো বের হয়ে যাওয়ার কথা, সেগুলো শরীরে জমে থাকে।
এই খারাপ কেমিক্যালগুলো মস্তিষ্কের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর প্রভাব পড়ে মাথার চারপাশের পেশিগুলোর উপর। পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায় এবং এর ফলেই মাথার মধ্যে ভারি ভারি ভাব, চাপ অনুভূতি বা ব্যথা তৈরি হয়। এই ধরনের মাথা ব্যথাকে সাধারণত টেনশন হেডেক বলা হয়। যাদের ঘুম কম হয় বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, তাদের মধ্যে এই টেনশন হেডেক খুবই সাধারণ একটি সমস্যা।
ঘুমের সমস্যার সাথে আরেক ধরনের মাথা ব্যথার সম্পর্ক রয়েছে, সেটি হলো মাইগ্রেন। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রিগার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় দেখা যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে পরদিন সকাল থেকেই একপাশে তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আলো, শব্দ বা বমি ভাবের মতো উপসর্গও এই সময় বাড়তে পারে।
এছাড়াও ঘুমের সমস্যার কারণে আরেক ধরনের মাথা ব্যথা হতে পারে, যাকে বলা হয় হিপনিক হেডেক। এই ক্ষেত্রে সারারাত ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পুরো মাথাজুড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও ঘুমের মান খারাপ হলে এই সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সুতরাং, যদি আপনার ঘুম পর্যাপ্ত না হয়, ঘুম গভীর না হয় বা বারবার ভেঙে যায়, তাহলে আপনি টেনশন হেডেক, মাইগ্রেন বেড়ে যাওয়া বা হিপনিক হেডেকের মতো বিভিন্ন ধরনের মাথা ব্যথার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এই ধরনের মাথা ব্যথা এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করা, গভীর ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং ঘুমের সময় পর্যাপ্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভালো ঘুম শুধু মাথা ব্যথা কমায় না, বরং সার্বিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে।
সবশেষে বলা যায়, সুস্থ থাকতে হলে ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ও গভীর ঘুমই মাথা ব্যথা থেকে দূরে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply