স্তনে চাকা বা গোটা হলেই কি ক্যান্সার?
একজন তরুণী কিংবা মধ্যবয়স্ক নারী। এক সকালে হঠাৎ খেয়াল করলেন, স্তনের কোনো এক অংশে গোটা বা চাকার মতো কিছু অনুভব হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই মনে ভয় জাগতে পারে, এটি স্তন ক্যান্সার নয় তো?
তবে স্তনে চাকা বা গোটা অনুভব হলেই সেটি ক্যান্সার, এমন নয়। বয়স, হরমোনের পরিবর্তন, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে স্তনে চাকা হতে পারে। এর মধ্যে অনেকগুলোই বিনাইন বা ক্যান্সারবিহীন। তবে স্তনে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে সঠিকভাবে পরীক্ষা করানো জরুরি।
বয়সভেদে স্তনে চাকা হওয়ার কারণ
স্তনে চাকা বা পিণ্ড হওয়ার কারণ নারীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তরুণী, মধ্যবয়স্ক নারী কিংবা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে স্তনে চাকা হওয়ার পেছনে আলাদা আলাদা কারণ থাকতে পারে।
১. ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা
কিশোরী ও তরুণীদের স্তনে চাকা হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা। এটি স্তনের একটি বিনাইন বা ক্যান্সারবিহীন টিউমার।
এ ধরনের চাকা সাধারণত ব্যথামুক্ত হয় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করলে কিছুটা নড়াচড়া করতে পারে। এক স্তনে কিংবা উভয় স্তনে এক বা একাধিক ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এটি স্তন ক্যান্সার নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।
২. ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন
বিশের দশক পেরিয়ে ত্রিশ বা চল্লিশের দশকে অনেক নারীর স্তনে দলা পাকানো, শক্ত হয়ে থাকা কিংবা চাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন।
হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে স্তনের টিস্যুতে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় স্তন কিছুটা ভারী, অমসৃণ বা দলা পাকানো মনে হয়। এটি সাধারণত একটি বিনাইন অবস্থা, ক্যান্সার নয়।
৩. ব্রেস্ট অ্যাবসেস বা স্তনে ফোড়া
স্তনে ব্যথাযুক্ত চাকা তৈরি হলে তার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো ব্রেস্ট অ্যাবসেস বা স্তনে ফোড়া। বিশেষ করে যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তনে সংক্রমণ বা প্রদাহের কারণে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে দুধ জমে থাকা বা স্তনে প্রদাহের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা এবং কখনো সংক্রমণজনিত ফোড়া তৈরি হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
স্তন ক্যান্সারের চাকা কেমন হতে পারে?
স্তন ক্যান্সারও স্তনে চাকা বা পিণ্ডের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই চাকা ব্যথামুক্ত, শক্ত এবং সহজে নড়াচড়া করে না। কখনো চাকাটির আকৃতি অনিয়মিতও হতে পারে।
তবে শুধু চাকার ব্যথা আছে কি নেই, সেটি শক্ত নাকি নরম, কিংবা নড়াচড়া করে কি না, এসব বৈশিষ্ট্য দেখে নিশ্চিতভাবে ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় না। স্তনে নতুন কোনো চাকা অনুভব করলে সেটি পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
স্তনে চাকা অনুভব করলে কী করবেন?
স্তনে নতুন কোনো চাকা বা গোটা অনুভব করলে আতঙ্কিত না হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন বা ব্রেস্ট সার্জনের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসোনোগ্রাম, ম্যামোগ্রাম কিংবা বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন।
বিশেষ করে স্তনের চাকা শক্ত হলে, সহজে নড়াচড়া না করলে, আকারে বাড়তে থাকলে কিংবা স্তনের ত্বক বা বোঁটায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
শেষ কথা
স্তনে চাকা বা গোটা হলেই সেটি স্তন ক্যান্সার নয়। ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা, ফাইব্রোসিস্টিক পরিবর্তন কিংবা সংক্রমণের কারণেও স্তনে চাকা হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই স্তনে নতুন কোনো চাকা অনুভব করলে ভয় পেয়ে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়ই পরবর্তী চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply