পেটের ক্যান্সার এর লক্ষণ কি কি ?
পেটের অস্বস্তি, বদহজম কিংবা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন হলে অনেকেই একে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এসব উপসর্গ পাকস্থলী, অন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্রের অন্য কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
পাকস্থলী বা অন্ত্রের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। বিশেষ করে পাকস্থলীর ক্যান্সারের শুরুতে ব্যথা নাও থাকতে পারে। ফলে শুধু পেটে ব্যথা হচ্ছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
তাই দীর্ঘদিনের পেটের অস্বস্তি, খাবার গিলতে সমস্যা, পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
পেটের ক্যান্সারের ৭টি সম্ভাব্য লক্ষণ
১. দীর্ঘদিন পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া ও বদহজম
কয়েক মাস ধরে পেটে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা বদহজমের সমস্যা চলতে থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকেই এসব উপসর্গকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করে নিজের মতো ওষুধ খেতে থাকেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা নতুন ধরনের উপসর্গের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. অল্প খাবার খেলেই পেট ভরে যাওয়া
অল্প খাবার খাওয়ার পরই পেট ভরে গেছে বলে মনে হওয়াকে আর্লি স্যাটাইটি বলা হয়। পাকস্থলীর দেয়ালে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা টিউমার থাকলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অন্য অনেক কারণেও এমন হতে পারে।
৩. খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া বা বমি
খাবার গিলতে গেলে বুকের কাছে আটকে থাকার অনুভূতি, গিলতে অসুবিধা কিংবা খাবার খাওয়ার পরপরই বমি হওয়ার মতো লক্ষণ খাদ্যনালি বা পাকস্থলীর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব উপসর্গ বারবার হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪. পায়খানার অভ্যাস হঠাৎ পরিবর্তন হওয়া
স্বাভাবিক পায়খানার অভ্যাস হঠাৎ বদলে গিয়ে দীর্ঘদিন পাতলা পায়খানা হওয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেওয়া অন্ত্রের রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন পরিবর্তন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পায়খানার ধরন বা ঘনত্বে স্থায়ী পরিবর্তন, এমনকি মল আগের তুলনায় সরু হয়ে যাওয়াও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু মল সরু হওয়া মানেই ক্যান্সার নয়।
৫. পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
পায়খানার সঙ্গে তাজা লাল রক্ত, কালচে মল কিংবা আলকাতরার মতো কালো মল দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। অন্ত্রের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে এমন হতে পারে। আবার পাইলস বা আলসারের মতো সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। তাই রক্তপাতের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৬. পেটে চাকা অনুভব করা বা পেট ফুলে যাওয়া
পেটের মধ্যে নতুন করে কোনো চাকা বা পিণ্ড অনুভব করা, অস্বাভাবিকভাবে পেট ফুলে যাওয়া কিংবা পেটে পানি জমার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এসব লক্ষণের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে কিছু গুরুতর রোগও রয়েছে।
৭. অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও রক্তশূন্যতা
খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও হঠাৎ কয়েক মাসের মধ্যে ওজন অনেকটা কমে গেলে তা সতর্কসংকেত হতে পারে। একইভাবে রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তিও কখনো কখনো পরিপাকতন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণের কারণে হতে পারে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
উল্লিখিত সব লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেওয়া জরুরি নয়। এক বা একাধিক উপসর্গও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়তে থাকলে কিংবা অকারণে ওজন কমা, রক্তপাত বা খাবার গিলতে অসুবিধার মতো সমস্যা দেখা দিলে দেরি করা উচিত নয়।
চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপি, কোলনোস্কোপি বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলেই পাকস্থলী বা অন্ত্রের সব ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করা যায় না।
শেষ কথা
পেটের অস্বস্তি বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। তবে দীর্ঘদিনের বদহজম, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা রক্তশূন্যতার মতো লক্ষণ অবহেলা করাও ঠিক নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তাই নিজে নিজে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে উপসর্গ চাপা না দিয়ে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply