চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
জীবনযাপন

মস্তিষ্কে অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেসের প্রভাব

Dr Saumitra Sarkar২১ জানুয়ারি ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া
মস্তিষ্কে অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেসের প্রভাব

আজকের আলোচনার বিষয় হলো এংজাইটি এবং স্ট্রেস আমাদের মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে। স্ট্রেস এবং এংজাইটি শুধু মানসিক নয়, বরং শারীরিকভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও শরীরের অন্যান্য অংশকেও প্রভাবিত করে।

স্ট্রেসের কারণে আমাদের শরীরে নানা ধরনের কেমিক্যাল রিএকশন ঘটে। শরীর স্বাভাবিকভাবে এগুলোর প্রতিক্রিয়া দেয়, যা ফাইট অ্যান্ড ফ্লাইট রেসপন্স নামে পরিচিত। অর্থাৎ স্ট্রেসের সময় আমরা হয় বিপদ মোকাবিলা করি, নয়তো ঝুঁকি এড়িয়ে চলি। এই সময়ে মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন হাইপোক্যাম্পাস, হাইপোথ্যালামাস, প্রিফ্রন্টাল করটেক্স এবং অ্যামিগডালা সক্রিয় হয়।

অ্যামিগডালা মূলত আমাদের স্মৃতি, আবেগ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। স্ট্রেসের সময় এটি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। যদি এটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারে, তাহলে স্মৃতিশক্তি কমতে পারে এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাইপোথ্যালামাস থেকে কর্টিসোল হরমোন নিঃসৃত হয়। কর্টিসোলের অতিরিক্ত মাত্রা কোষ ক্ষয়, ঘুমের ব্যাঘাত, খিটখিটে মেজাজ এবং বিষন্নতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। প্রিফ্রন্টাল করটেক্স আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, চিন্তাশক্তি এবং নতুন কাজ শেখার ক্ষমতা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস এই অংশগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে এবং ছোট করে দিতে পারে।

স্বল্পমেয়াদী স্ট্রেস তেমন ক্ষতি করে না। তবে দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস বা ক্রনিক এংজাইটি নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিষন্নতা, স্মৃতিভ্রংশ, অ্যালঝেইমার্স ডিজিজের ঝুঁকি, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ।

স্ট্রেস ও এংজাইটি নিয়ন্ত্রণ করার উপায়গুলো হলো:

  1. মেন্টাল রিলাক্সেশন ও মেডিটেশন: দৈনিক ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা মানসিক শান্তি ও মেডিটেশন করাই স্ট্রেস হ্রাসে সহায়ক।

  2. শারীরিক ব্যায়াম: হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম বা অন্যান্য হালকা এক্সারসাইজ হ্যাপি হরমোন নিঃসরণের জন্য সহায়ক।

  3. সুষম খাদ্যাভ্যাস: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন চিয়া সিড, আঙ্গুর, গ্রিন ভেজিটেবলস ও ফ্রুটস।

  4. বদঅভ্যাস এড়িয়ে চলা: ধূমপান, অ্যালকোহল ও ড্রাগ ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।

সংক্ষেপে বলা যায়, নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক যত্ন এবং সুষম জীবনধারা মেনে চললে আমরা স্ট্রেস ও এংজাইটি থেকে মুক্ত থাকতে পারি। এটি শুধু মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে না, বরং সার্বিকভাবে আমাদের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যও শক্তিশালী করে।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *