পাইলস আসলে কী?
পাইলস একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু লজ্জার কারণে অনেকেই এড়িয়ে চলেন এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি সহজেই চিকিৎসাযোগ্য।
পাইলস কী?
পায়খানার রাস্তা বা মলদ্বারের ভেতরে ও চারপাশে যে শিরাগুলো থাকে, সেগুলো ফুলে গিয়ে বা স্ফীত হয়ে যে সমস্যা তৈরি করে, তাকে পাইলস বা হেমোরয়েড বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অর্শ রোগও বলা হয়ে থাকে।
পাইলসের প্রকারভেদ
১. অভ্যন্তরীণ পাইলস
মলদ্বারের ভেতরের অংশে তৈরি হয় এবং সাধারণত ব্যথাহীন হলেও রক্তপাত হতে পারে।
২. বাহ্যিক পাইলস
মলদ্বারের বাইরের ত্বকের নিচে তৈরি হয় এবং এতে ব্যথা, চুলকানি ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
পাইলসের ধাপ বা গ্রেড
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পাইলসকে সাধারণত চারটি ধাপে ভাগ করা হয়
- প্রথম ডিগ্রি — সামান্য ফুলে যাওয়া, বাইরে থেকে বোঝা যায় না
- দ্বিতীয় ডিগ্রি — মলত্যাগের সময় বাইরে বেরিয়ে আসে, তবে নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়
- তৃতীয় ডিগ্রি — বাইরে বের হয়ে আসে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়
- চতুর্থ ডিগ্রি — সবসময় বাইরে থাকে এবং ভেতরে ঢোকানো যায় না
পাইলস হওয়ার কারণ
- দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
- মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দেওয়া
- দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা
- ফাইবারযুক্ত খাবার কম খাওয়া
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা
- দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস
- গর্ভাবস্থা
- পারিবারিক ইতিহাস
পাইলসের লক্ষণসমূহ
- মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত
- মলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া
- মলদ্বারের চারপাশে ফোলাভাব বা গোটা অনুভব করা
- মলত্যাগের সময় ব্যথা
- মলদ্বার থেকে কিছু বেরিয়ে আসার অনুভূতি
চিকিৎসা পদ্ধতি
পাইলসের ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়
- প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও খাওয়ার ওষুধ
- মলম বা প্রয়োগযোগ্য ওষুধ
- ব্যান্ডিং বা ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা
- উন্নত পর্যায়ে ছোট বা বড় অপারেশন
শেষ কথা
পাইলস কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং একটি সাধারণ ও চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই সমাধান সম্ভব। তাই লক্ষণ দেখা দিলে লজ্জা না করে দ্রুত একজন কোলোরেক্টাল বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply