পাইলস নিয়ে লজ্জা নয়-সময়মতো চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে বড় সমস্যা
পাইলস চিকিৎসায় লজ্জা নয়: অবহেলা করলেই বাড়বে জটিলতা
পায়খানার রাস্তার যেকোনো সমস্যা বা পাইলসের কথা শুনলেই আমাদের সমাজের বেশিরভাগ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও পুরুষ উভয়েই এক ধরণের সামাজিক লজ্জায় ভোগেন। প্রাইভেসির অভাব বা সংকোচের কারণে অনেকেই শুরুতে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। কিন্তু এই লোকলজ্জা আর অবহেলার কারণে একটি সাধারণ ও নিরাময়যোগ্য রোগ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা আমরা অনেকেই কল্পনাও করতে পারি না।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, পাইলস বা মলদ্বারের সমস্যাকে লুকিয়ে রাখা বা ভুল জায়গায় চিকিৎসা নেওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি।
লোকলজ্জার সুযোগে ভুল চিকিৎসা ও ভয়াবহ পরিণতি
সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে কাছাকাছি কোনো কবিরাজ বা হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। এসব জায়গায় পাইলস ভালো করার নামে মলদ্বারে বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা অ্যাসিড জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মলদ্বারের চারপাশের চামড়া ও পেশী মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং সেখানে তীব্র ইনফেকশন বা ক্ষত তৈরি হয়।
এই ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীকে দীর্ঘ মেয়াদে তীব্র কষ্ট ভোগ করতে হয়। অনেক সময় এই শারীরিক জটিলতার সামাজিক প্রভাব এতটাই মারাত্মক হয় যে, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্পর্কও ভেঙে যাওয়ার মতো দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। অথচ শুরুতে সাধারণ সচেতনতাই এই বিপদ থেকে বাঁচাতে পারত।
সময়মতো চিকিৎসা না করালে কী জটিলতা হয়?
আপনি রোগটিকে যত বেশি লুকিয়ে রাখবেন, ভেতরের সমস্যা তত দ্রুত বাড়তে থাকবে। পাইলসের কয়েকটি ধাপ বা ডিগ্রি থাকে:
-
প্রাথমিক ধাপ (ইনিশিয়াল স্টেজ): শুরুতে চিকিৎসকের কাছে আসলে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো অপারেশন ছাড়াই শুধুমাত্র কিছু ওষুধ, মলদ্বারে লাগানোর ক্রিম এবং লাইফস্টাইল বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই রোগটি সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।
-
পরবর্তী ধাপ (অ্যাডভান্সড স্টেজ): রোগটি যখন অবহেলার কারণে সেকেন্ড, থার্ড বা ফোর্থ ডিগ্রিতে পৌঁছে যায়, তখন চিকিৎসা কিছুটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। তখন ইনজেকশন বা ছোট-বড় অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই যত দেরি করবেন, রোগ তত জটিল হবে এবং এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে যখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, তখন কষ্ট এবং সময় দুটোই বেশি লাগবে।
আমাদের কী করা উচিত?
-
লজ্জা ঝেড়ে ফেলুন: হাত, পা, চোখ বা হার্টের মতো মলদ্বারও শরীরের একটি সাধারণ অঙ্গ এবং সেখানে রোগ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। একে লুকিয়ে রাখার কিছু নেই।
-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: সংকোচ দূর করে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে যান। নারী রোগীদের ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকের সহকারী বা ফিমেল পার্সন উপস্থিত রেখে পরীক্ষা করার সুব্যবস্থা থাকে, তাই প্রাইভেসি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
-
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করুন: পাইলসের মূল কারণ হলো কষা বা কোষ্ঠকাঠিন্য। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান।
শেষ কথা
পাইলস কোনো মরণব্যাধি নয়, যদি এর সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করা হয়। লোকলজ্জা বা লোকমুখের কথায় কান দিয়ে হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবেন না। সচেতন হোন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন এবং সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply