পায়খানার রাস্তার সমস্যা লুকিয়ে রাখবেন না, দেরি করলেই বাড়ে জটিলতা
পায়খানার রাস্তার সমস্যা লুকিয়ে রাখবেন না, দেরি করলেই বাড়ে জটিলতা
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ পায়খানার রাস্তার সমস্যা নিয়ে প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এর পেছনে রয়েছে সামাজিক লজ্জা, প্রাইভেসি নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং অজ্ঞতা। ফলে সমস্যা বাড়তে থাকে এবং একসময় তা জটিল আকার ধারণ করে।
কেন মানুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধা করেন?
এর পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করে
- প্রাইভেসি সংক্রান্ত সংকোচ, বিশেষ করে নারীরা পুরুষ চিকিৎসকের কাছে এবং পুরুষরা নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করেন
- সচেতনতার অভাব এবং ভুল ধারণা যে এই সমস্যার সমাধানে সবসময় অপারেশনের প্রয়োজন হয়
অসচেতনতার মাশুল: একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা
একবার এক তরুণী চিকিৎসকের চেম্বারে আসেন, যার মাত্র এক মাস পরেই বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পায়খানার রাস্তা মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে এবং সেখানে ইনফেকশন হয়ে সাদা হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে জানা যায়, প্রথমদিকে পাইলসের সমস্যা হলে তিনি একজন কবিরাজের কাছে যান, যিনি সম্ভবত এসিডজাতীয় কোনো পদার্থ প্রয়োগ করেন। এতে ক্ষতস্থান মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ড্রেসিং করেও তা সারাতে অনেক সময় লেগে যায়। চিকিৎসার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে শেষ পর্যন্ত তার বিয়েটিও ভেঙে যায়।
প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে যা সম্ভব হতো
শুরুতেই সঠিক চিকিৎসকের কাছে গেলে এই ধরনের জটিলতা সহজেই এড়ানো যেত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে
- শুধুমাত্র খাওয়ার ওষুধ ও প্রয়োগযোগ্য মলমেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়
- কষা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে উপশম পাওয়া যায়
- এমনকি সমস্যা কিছুটা এগিয়ে গেলেও ছোট অপারেশনের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব
প্রকৃতপক্ষে, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগী সম্পূর্ণ মুক্তি পান।
দেরি করলে কী হয়?
সমস্যা যত দেরিতে চিকিৎসকের নজরে আসে, তত জটিল হয়ে ওঠে। যেমন পাইলসের ক্ষেত্রে দেখা যায়
- সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি থার্ড ডিগ্রি বা ফোর্থ ডিগ্রি পর্যায়ে পৌঁছে যায়
- তখন ছোট অপারেশনের পরিবর্তে বড় অপারেশন বা ইনজেকশনের প্রয়োজন হতে পারে
- চিকিৎসা প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে
শেষ কথা
শরীরের যেকোনো অঙ্গে সমস্যা হতে পারে, এতে লজ্জার কিছু নেই। পায়খানার রাস্তার সমস্যা লুকিয়ে না রেখে বা কবিরাজি চিকিৎসার পেছনে সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায় এবং সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply