বন্ধ্যাত্ব কেন হয় এবং এর সমাধান কী?
আমাদের দেশে ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক দম্পতি বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন। এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু মানসিকভাবে কষ্টদায়ক সমস্যা, যা সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সমাধানযোগ্য।
বন্ধ্যাত্ব বলতে আসলে কী বোঝায়?
একজন সক্ষম দম্পতি যখন বিবাহিত জীবনে কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছাড়াই একটানা এক বছর চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তখনই তাদের বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত বলে ধরা হয়। এক বছরের বেশি সময় চেষ্টা করার পরও সন্তান না হলে দম্পতির উচিত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
প্রথমে যা করা হয়
রোগী চিকিৎসকের কাছে এলে প্রথমেই বিস্তারিত হিস্ট্রি নেওয়া হয়। কারণ, বন্ধ্যাত্বের পেছনে অনেক সময় সাধারণ কিছু বিষয়ও লুকিয়ে থাকে।
- নারীর বয়স খুব কম কিংবা ৩৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি কিনা
- স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস করছেন কিনা, নাকি স্বামী প্রবাসে থাকেন
- সঠিক সময়ে চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা, অর্থাৎ মাসিকের ১০ম থেকে ২১তম দিনের মধ্যে
দেখা যায়, শুধু সময়মতো চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েই অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়।
নারীদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ
১. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা
ওজন বেশি হলে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং প্রতি মাসে নিয়মিত ওভুলেশন বা ডিম্বাণু নির্গত না-ও হতে পারে।
২. হরমোনজনিত সমস্যা
বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে মাসিক চক্র ঠিকমতো বজায় থাকে না। এর মধ্যে রয়েছে
- থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
- প্রোল্যাকটিন হরমোনের আধিক্য
- এফএসএইচ ও এলএইচ হরমোনের অস্বাভাবিকতা
৩. কিডনি ও লিভারের রোগ
কিছু মেডিকেল অসুখ, যেমন কিডনি বা লিভারের রোগ, পরোক্ষভাবে বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।
৪. যৌনবাহিত সংক্রমণ
ক্লেমাইডিয়া, গনোরিয়া বা সিফিলিসের মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ থাকলে প্রজননতন্ত্রের টিউব বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বন্ধ্যাত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ
শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের কারণেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
- বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকা
- শুক্রাণুর চলন ক্ষমতা কম থাকা
- থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
- প্রোল্যাকটিন হরমোনসহ অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা
চিকিৎসার পদ্ধতি
দম্পতির হিস্ট্রি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হয়। অনেক সময় শুধু সঠিক সময়ে চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েই কনসেপশন সম্ভব হয়। আবার হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে পিরিয়ড নিয়মিত করার পাশাপাশি ডিম্বাণু নিঃসরণে সহায়ক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, যা বাজারে সহজলভ্য।
শেষ কথা
বন্ধ্যাত্ব কখনো কখনো খুবই সাধারণ কারণে হয়, আবার কখনো এর পেছনে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা লুকিয়ে থাকে। তবে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এবং যথাযথ চিকিৎসা করালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সন্তানহীনতার এই কষ্ট দূর করা সম্ভব। একটি সন্তান একটি পরিবারকে যে সুখ এনে দেয়, তা ফিরিয়ে আনতে দ্বিধা না করে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply