বাচ্চার জ্বর হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন?
বাচ্চাদের জ্বর হওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় এবং প্রায় প্রতিটি অভিভাবককেই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জ্বর তেমন উদ্বেগের কারণ নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যা সময়মতো চিহ্নিত করা জরুরি।
জ্বর কেন হয়?
শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো জ্বর। সাধারণত নিচের কারণে বাচ্চাদের জ্বর হয়ে থাকে
- ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি-কাশি
- কানের সংক্রমণ
- গলার সংক্রমণ
- টিকা দেওয়ার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
- দাঁত ওঠার সময়কালীন হালকা জ্বর
প্রাথমিক অবস্থায় বাসায় যা করণীয়
- বাচ্চাকে হালকা পোশাক পরিয়ে রাখা
- পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পানি পান করানো
- প্রয়োজনে প্যারাসিটামল জাতীয় জ্বরের ওষুধ সঠিক মাত্রায় দেওয়া
- শরীর মুছে দেওয়া হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে
- বাচ্চাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দেওয়া
বয়স অনুযায়ী কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন
- তিন মাসের কম বয়সী শিশুর তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে
- তিন থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুর জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে
- ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুর জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে
যেসব লক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- বাচ্চা অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়া বা সাড়া না দেওয়া
- খিঁচুনি হওয়া
- শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
- শরীরে র্যাশ বা লালচে দাগ দেখা দেওয়া
- বমি করতে থাকা বা তরল খাবার গ্রহণ করতে না পারা
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
- কান্না করার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন রকম শোনানো
- শরীরে বা ঠোঁটে নীলচে ভাব দেখা দেওয়া
যেসব বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
- যাদের পূর্বে জ্বরজনিত খিঁচুনির ইতিহাস আছে
- যাদের দীর্ঘমেয়াদী কোনো রোগ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
- যাদের সম্প্রতি কোনো বড় অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচার হয়েছে
শেষ কথা
সাধারণ জ্বর বাসায় সঠিক পরিচর্যায় এমনিতেই সেরে যায়, তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে জ্বরের সাথে উপরে উল্লিখিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে বাচ্চাকে বড় কোনো জটিলতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply