ব্যথা মানেই কি পেইন কিলার? জানুন মেকানিক্যাল পেইনের প্রকৃত চিকিৎসা
শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে বা মাংসপেশিতে ব্যথা হলে আমরা প্রায়ই ফার্মেসি থেকে পেইন কিলার কিনে খেয়ে থাকি। কিন্তু ব্যথা হলেই কি পেইন কিলার খাওয়া যুক্তিসঙ্গত? আসুন জেনে নিই মেকানিক্যাল পেইন সম্পর্কে এবং এর প্রকৃত সমাধান কী হওয়া উচিত।
মেকানিক্যাল পেইন কী?
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ ব্যথাই হলো মেকানিক্যাল পেইন। অর্থাৎ দৈনন্দিন কাজকর্ম, বসার ভঙ্গি, চলাফেরা বা পেশাগত কারণেই এই ধরনের ব্যথা তৈরি হয়।
মেকানিক্যাল পেইন কেন হয়?
মেরুদণ্ডের সঠিক এলাইনমেন্ট বজায় রেখে কাজ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট কিছু পেশায় নিয়োজিত
- কর্পোরেট অফিসে দীর্ঘসময় বসে কাজ করা ব্যক্তিরা
- ব্যাংকে চাকরিরত কর্মীরা
- ডেন্টিস্টের মতো দীর্ঘসময় নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে কাজ করা পেশাজীবীরা
দীর্ঘদিন ভুল ভঙ্গিতে কাজ করার ফলে স্পাইনে অস্বাভাবিক বায়োমেকানিক্স তৈরি হয়। এক্সরেতে অনেক সময় দেখা যায় স্পাইনের স্বাভাবিক কার্ভেচার সোজা হয়ে গেছে, যা সার্ভাইক্যাল বা লাম্বার স্পাইনে হতে পারে এবং মাসল স্পাজমের কারণে ঘটে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে নার্ভ কম্প্রেশন হতে পারে, যার ফলে ব্যথা ঘাড় থেকে হাতে বা কোমর থেকে পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
পেইন কিলার কি প্রকৃত সমাধান?
মেকানিক্যাল কারণে সৃষ্ট ব্যথায় পেইন কিলার তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখে না। এটি শুধু সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে পারে, কিন্তু ব্যথার প্রকৃত কারণ দূর করে না।
সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি কী?
মেকানিক্যাল পেইনের ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক কারণ নির্ণয়। ফিজিওথেরাপিস্টরা সাধারণত নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেন
- রোগীর ফিজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট, যেমন জয়েন্টের রেঞ্জ অফ মোশন ও স্পাইনের এলাইনমেন্ট পরীক্ষা
- প্রয়োজনে এক্সরে ও এমআরআই-এর মতো রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা
- সঠিক ডায়াগনোসিসের ভিত্তিতে ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে
- মোবিলাইজেশন ও ম্যানিপুলেশন থেরাপি
- নার্ভ স্ট্রেচিং বা নিউরোডাইনামিক্স
- মাংসপেশি শক্তিশালীকরণ ব্যায়াম
- ইলেকট্রোথেরাপি
পেইন কিলার কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে তা শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপিউটিক চিকিৎসার পাশাপাশি সাময়িক উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী পেইন কিলার ব্যবহারের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন পেইন কিলার সেবনে কিডনি ও লিভারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু দুই-তিন বছর পর দেখা যায়, এই অভ্যাসের কারণে কিডনি বা লিভারে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে।
শেষ কথা
ব্যথা কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই ব্যথা হলেই পেইন কিলার না খেয়ে একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা উচিত এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। এতেই সম্ভব দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ ও কর্মময় জীবনযাপন।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply