ব্রণ হলে কী করবেন?
কিশোর বয়স থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে ব্রণ একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি এটি অনেকের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে ব্রণ সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ব্রণ কেন হয়?
ত্বকের নিচে থাকা তেল গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল বা সেবাম নিঃসরণ হলে এবং তা লোমকূপে জমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটালে ব্রণ দেখা দেয়। এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ থাকে
- হরমোনজনিত পরিবর্তন, বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে
- অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক
- অপরিষ্কার ত্বক বা লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া
- মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন
- অতিরিক্ত তেল বা কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার
- পারিবারিক ইতিহাস বা জেনেটিক কারণ
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা হরমোনজনিত অন্য কোনো সমস্যা
ব্রণের লক্ষণসমূহ
- মুখ, কপাল, চিবুক বা পিঠে ছোট ছোট ফুসকুড়ি
- ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস
- লালচে ও ফোলা দানা
- কিছু ক্ষেত্রে ব্যথাযুক্ত সিস্ট বা বড় গোটা
ব্রণ হলে যা করা উচিত
- দিনে দুইবার হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখুন
- ব্রণ হাত দিয়ে খোঁটানো বা চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন
- তৈলাক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে নন-কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার করুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
যা করা উচিত নয়
- নিজে থেকে ব্রণ চেপে বা ফাটিয়ে ফেলা
- বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা বা অপ্রমাণিত পণ্য ব্যবহার করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, ব্যথাযুক্ত হয়, বড় সিস্ট তৈরি করে অথবা মুখে দাগ বা গর্ত ফেলে যায়, তাহলে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক টপিক্যাল ওষুধ, মুখে খাওয়ার ওষুধ কিংবা লেজার থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন।
শেষ কথা
ব্রণ কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সাধারণ চর্মরোগ যা সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঘরোয়া টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে সমস্যা বেশি দিন স্থায়ী হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply