চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
ডাক্তারের পরামর্শ

মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়-কখন বুঝবেন এটি সিরিয়াস নিউরো সমস্যা?

Dr Shaheen Wadud২৩ মে ২০২৬ · ৩ মিনিট পড়া
মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়-কখন বুঝবেন এটি সিরিয়াস নিউরো সমস্যা?

মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়-কখন বুঝবেন এটি সিরিয়াস নিউরো সমস্যা?

মাথাব্যথা সমস্যাটি আমাদের সবার কাছেই খুব পরিচিত একটি শব্দ। দৈনন্দিন জীবনে কমবেশি সবাই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই বুঝতে পারেন না কোন মাথাব্যথাটি সাধারণ আর কোনটি অত্যন্ত গুরুতর বা সিরিয়াস নিউরো সমস্যা। অনেকে সামান্য মাথাব্যথা হলেই সেটিকে মাইগ্রেন ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে মাথাব্যথার ধরণ এবং কখন এটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তা জানা সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ মাথাব্যথার ধরণগুলো কী কী?

১. টেনশন হেডেক (Tension Headache): এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষের এই ধরণের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এই ব্যথাটি সাধারণত মাথার দুই পাশে হয় এবং মাথা চেপে ধরে থাকার মতো এক ধরণের চাপ অনুভূত হয় । কাজের চাপ বাড়লে বা অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা (স্ট্রেস) থেকে এটি হতে পারে । এটি মোটেও সিরিয়াস কিছু নয়।

২. মাইগ্রেনের ব্যথা (Migraine): এটিও বেশ কমন একটি সমস্যা। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে ব্যথাটি মাথার যেকোনো এক পাশে হয় এবং এটি বেশ তীব্র ও দপদপানির মতো হতে পারে । মাইগ্রেন কষ্টদায়ক হলেও এটি শরীরের জন্য মারাত্মক বা জীবনঘাতী কোনো সমস্যা তৈরি করে না ।

৩. সাইনোসাইটিসের মাথাব্যথা (Sinusitis): এই মাথাব্যথার সাথে সাধারণত রোগীর সর্দি-ঠান্ডা লাগা, নাক বন্ধ থাকা এবং মাথা ভারী ভারী অনুভব হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে । চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠান্ডার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে ।

৪. ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headache): এটি তুলনামূলক কম দেখা যায় এবং সাধারণত পুরুষদের এই সমস্যা বেশি হয় । এই ব্যথায় চোখের চারপাশে তীব্র যন্ত্রণা হয়, চোখ লাল হয়ে যায় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। এটিও কোনো স্থায়ী বা মারাত্মক ক্ষতি করে না।

কখন বুঝবেন এটি সিরিয়াস নিউরো সমস্যা? (বিপদের লক্ষণ)

সব মাথাব্যথা অবহেলা করার মতো নয়। কিছু লক্ষণ দেখলে বুঝতে হবে এটি ব্রেইন স্ট্রোক, ব্রেইন টিউমার বা মেনিঞ্জাইটিসের মতো মারাত্মক নিউরোলজিক্যাল সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। নিচে উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে:

  • হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করে যদি প্রচণ্ড বা তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়।

  • অনবরত বমি হওয়া: মাথাব্যথার তীব্রতার কারণে যদি রোগীর বমি হতে থাকে।

  • ঘাড় ব্যথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া: মাথাব্যথার সাথে যদি ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হয় এবং ঘাড় নাড়াচড়া করা না যায় অর্থাৎ ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী?

যদি কোনো রোগীর মধ্যে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বমি এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো একসাথে দেখা যায়, তবে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে ঘরে বসে থাকার বা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীকে আর দেরি না করে অতি সত্ত্বর নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে না নিলে রোগী তীব্র মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

শেষ কথা

মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন বা সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। লক্ষণগুলো ভালো করে চিনে রাখুন। সাধারণ মাথাব্যথা লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও সাধারণ ওষুধে ভালো হলেও, ঘাড় শক্ত হওয়া বা বমির মতো উপসর্গযুক্ত তীব্র মাথাব্যথা একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। আপনার সচেতনতাই পারে একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *