শিশুর হার্টে ছিদ্র কেন হয় ?
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই অনেক শিশু জন্মের সময় হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান অগ্রগতির পরেও এই হার্টের ছিদ্রের নির্দিষ্ট ও একক কোনো কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে আবিষ্কৃত হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি একটি জন্মগত হৃদরোগ, অর্থাৎ শিশুটি মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়েই এই ত্রুটির সৃষ্টি হয়।
জন্মগত হার্টের ছিদ্র কীভাবে হয়
গর্ভাবস্থায় শিশুর প্রতিটি অঙ্গ ধাপে ধাপে বিকশিত হয়। হৃদপিণ্ডের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়ে এর বিভিন্ন অংশ এবং ভেতরের কাঠামো তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় হৃদপিণ্ডের ভেতরের কিছু অংশ সম্পূর্ণভাবে বা স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। এর ফলে হৃদপিণ্ডের ভেতরে ছিদ্র থেকে যেতে পারে। এই অবস্থাকেই বলা হয় জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি, যার একটি সাধারণ রূপ হলো হার্টের ছিদ্র।
সব হার্টের ছিদ্র কি একই রকম
না, সব হার্টের ছিদ্র এক রকম নয়। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ছোট আকারের ছিদ্র এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং এতে আলাদা চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ছিদ্রটি বড় হতে পারে অথবা দীর্ঘদিন ধরে থেকে যেতে পারে।
বড় বয়সে হার্টের ছিদ্র ধরা পড়ার কারণ
অনেক সময় দেখা যায় ৪০, ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সেও কোনো ব্যক্তির হার্টের ছিদ্র প্রথমবারের মতো ধরা পড়ছে। এর অর্থ এই নয় যে ওই বয়সে নতুন করে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। বাস্তবে, ছিদ্রটি জন্মগতভাবেই ছিল কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ তৈরি করেনি। পরবর্তীতে অন্য কোনো কারণে যখন ইকোকার্ডিওগ্রাফি বা হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করা হয়, তখন সেই জন্মগত ছিদ্রটি শনাক্ত হয়।
হার্টের ছিদ্র কি অভিশাপ
হার্টের ছিদ্র কোনো অভিশাপ নয়। এটি বাবা, মা বা পরিবারের কোনো দোষের ফল নয়। যেকোনো পরিবারের, যেকোনো শিশুর ক্ষেত্রেই এটি হতে পারে। যেহেতু এখন পর্যন্ত হার্টের ছিদ্রের সুনির্দিষ্ট কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, তাই একে অভিশাপ বা কোনো অতিপ্রাকৃত কারণে হয়েছে বলে ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
হার্টের ছিদ্র কেন হলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিজেদের দোষারোপ করার সুযোগ নেই। বরং শিশুর বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে হার্টের ছিদ্র শনাক্ত ও চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত শিশুরা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হলো শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply