হাঁটু ব্যথার কারণ কী এবং করণীয় কী?
হাঁটু ব্যথা বয়স নির্বিশেষে অনেকের মধ্যেই দেখা যায় এমন একটি সাধারণ সমস্যা। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন হয়ে থাকে।
হাঁটু ব্যথার প্রধান কারণসমূহ
- বয়স বৃদ্ধিজনিত কারণ
- রক্তের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন গাউট
- আঘাত বা লিগামেন্ট ইনজুরি
- ইনফেকশন
- কানেক্টিভ টিস্যু ডিজিজ, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
আঘাতজনিত হাঁটু ব্যথায় প্রাথমিক করণীয়
ছোটখাটো আঘাতের পর হাঁটু ব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে
- হাঁটুকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ
- প্রয়োজনে হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়া
একিউট বা স্বল্পমেয়াদী ব্যথা সাধারণত এভাবেই সেরে যায়। তবে ব্যথা ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।
বয়সজনিত হাঁটু ব্যথা: অস্টিওআর্থ্রাইটিস
সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে অস্টিওআর্থ্রাইটিসজনিত হাঁটু ব্যথা শুরু হতে পারে, কারো কারো ক্ষেত্রে তা ৫০ বা ৬০ বছর বয়সেও শুরু হয়। এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে যা করণীয়
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা হাঁটাচলা বা শারীরিক ব্যায়াম করা
ছোটবেলা থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
হাঁটু ব্যথা প্রতিরোধে অনেক আগে থেকেই সচেতন হওয়া সম্ভব। শৈশব থেকেই যদি নিম্নোক্ত অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব
- নিয়মিত খেলাধুলা করা
- পর্যাপ্ত সূর্যালোকে থাকা
- সুষম পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকা
মেকানিক্যাল কারণে হাঁটু ব্যথা
লিগামেন্ট ইনজুরি, যেমন এসিএল, পিসিএল, এমসিএল বা এলসিএল ইনজুরির কারণেও হাঁটু ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। মনে রাখা প্রয়োজন, সব লিগামেন্ট ইনজুরিতে অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। তবে চিকিৎসক অপারেশনের পরামর্শ দিলে তা করিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ এতে হাঁটুর অস্থিরতা দূর হয়ে দীর্ঘমেয়াদে হাঁটু স্থিতিশীল থাকে এবং ভবিষ্যতে অন্য লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
অন্যান্য কারণজনিত হাঁটু ব্যথা
- গাউটের কারণে হাঁটু ব্যথা হলে ওষুধ প্রয়োগ ও খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়
- ইনফেকশনের কারণে ব্যথা হলে সংক্রমণের চিকিৎসা করা হয়
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণে ব্যথা হলে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়
সংক্ষিপ্ত পরামর্শ
- ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ডায়াবেটিস ও প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত দুই ঘণ্টা হাঁটুন, সূর্যালোকে থাকুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান
- লিগামেন্ট ইনজুরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে সার্জারি করান
- ইনফেকশন বা গাউটজনিত সমস্যায় যথাযথ চিকিৎসা নিন
শেষ কথা
প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। তাই হাঁটু ব্যথা এড়াতে ছোটবেলা থেকেই সঠিক জীবনযাপন অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটু ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা আঘাতজনিত হলে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply