চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
রোগ ও উপসর্গ

হাঁটু ব্যথা কাদের বেশি হয়?

Protikar২২ আগস্ট ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া

হাঁটু ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা বয়স নির্বিশেষে অনেকেই ভোগেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

কাদের হাঁটু ব্যথার ঝুঁকি বেশি

১. বয়স্ক ব্যক্তিরা

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে, ফলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে বয়স্কদের মধ্যে হাঁটু ব্যথা বেশি দেখা যায়।

২. অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিরা

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা কার্টিলেজের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. নারীরা, বিশেষ করে মেনোপজ পরবর্তী সময়ে

মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ও কার্টিলেজের স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়, ফলে নারীদের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিসজনিত হাঁটু ব্যথা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

৪. যারা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে বা হাঁটাহাঁটি করে কাজ করেন

যেসব পেশায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বা অনবরত হাঁটাচলা করতে হয়, যেমন শিক্ষক, দোকানদার বা কারখানার শ্রমিক, তাদের হাঁটুর জয়েন্টে বাড়তি চাপ পড়ে।

৫. যারা বসে কাজ করেন উবু হয়ে বা হাঁটু গেড়ে

দীর্ঘসময় হাঁটু গেড়ে বা উবু হয়ে বসে কাজ করলে, যেমন কৃষিকাজ বা গৃহস্থালির কাজে, হাঁটুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

৬. খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটরা

ফুটবল, বাস্কেটবল বা দৌড়ের মতো খেলাধুলায় নিয়মিত অংশগ্রহণকারীদের হাঁটুতে আঘাত ও লিগামেন্ট ইনজুরির ঝুঁকি বেশি থাকে।

৭. আর্থ্রাইটিসের পারিবারিক ইতিহাস থাকা ব্যক্তিরা

জেনেটিক কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রবণতা বেশি হতে পারে।

৮. পূর্বে হাঁটুতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা

আগে কখনো হাঁটুতে ফ্র্যাকচার, লিগামেন্ট ছেঁড়া বা মেনিস্কাস ইনজুরি হলে ভবিষ্যতে হাঁটু ব্যথার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৯. দীর্ঘমেয়াদী কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা

  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যা
  • ডায়াবেটিস

শেষ কথা

হাঁটু ব্যথা বয়স, ওজন, পেশা, জীবনযাত্রা ও জেনেটিক কারণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এবং হাঁটুর উপর অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *