চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
ডাক্তারের পরামর্শ

হাম থেকে বাঁচতে করণীয়: লক্ষণ ও জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশনা

Protikar২৩ মে ২০২৬ · ৩ মিনিট পড়া
হাম থেকে বাঁচতে করণীয়: লক্ষণ ও জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশনা

হামে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এলে কী করবেন? কারণ, লক্ষণ ও জরুরি করণীয়

কোভিড-১৯ বা করোনার সময়ে আমরা যে ধরণের ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে আতঙ্কিত ছিলাম, বর্তমানে ‘হাম’ (Measles) নিয়েও ঠিক একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোভিডের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়। এই আতঙ্কে অনেক অভিভাবকই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো, অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে দেওয়া বা বাইরে নিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সচেতনতা ও করণীয় জানা থাকলে এই রোগটি সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

আপনার বাচ্চার মধ্যে হামের লক্ষণগুলো কী কী?

যদি কোনো শিশু বা ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হন, তবে প্রাথমিকভাবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়:

  • প্রচণ্ড জ্বর হওয়া।

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

  • শরীর বা চামড়ায় লালচে দানা বা র‍্যাশ (Rash) ওঠা।

  • নাক দিয়ে পানি পড়া এবং অনবরত কাশি হওয়া।

হামে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এলে জরুরি করণীয়

যদি কোনো ব্যক্তি বা শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত এমন কারো সংস্পর্শে (Contact) আসে, তবে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে:

১. পোস্ট এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PEP): প্রথমবার আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর পরবর্তী জটিলতা ও সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত হামের ভ্যাকসিন (Measles Vaccine) অথবা ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin) দেওয়া যেতে পারে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: আপনার বাচ্চার মধ্যে যদি ওপরের যেকোনো একটি লক্ষণও দেখা দেয়, তবে তাকে সাথে সাথে অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখুন। তাকে স্কুলে বা খেলার মাঠে না পাঠিয়ে বাসায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন, যাতে অন্য কোনো শিশু আক্রান্ত না হতে পারে।

বাসায় আক্রান্ত রোগীর পরিচর্যা ও চিকিৎসা

হামে আক্রান্ত সব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার কোনো প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসাতেই সঠিক নিয়মে যত্ন নিলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার: রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

  • জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

  • ভিটামিন এ ক্যাপসুল: হামের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ (Vitamin A) ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, যা রোগীর দ্রুত সুস্থতায় এবং চোখের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন?

সাধারণত বাসাতেই হাম ভালো হয়ে যায়, তবে এর কিছু মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা (Complications) রয়েছে। যদি রোগীর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে আর ঘরে না রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:

  • তীব্র শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে।

  • মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis) বা তীব্র মাথাঘোরা হলে।

  • রোগীর খিঁচুনি দেখা দিলে।

শেষ কথা

হাম একটি তীব্র ছোঁয়াচে রোগ হলেও সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং আক্রান্ত হলে আইসোলেশন ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। আতঙ্কিত হয়ে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না করে, লক্ষণ দেখা দিলে সচেতন হোন এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *