চিকিৎসকের কলমে, সুস্থতার সন্ধানে আমাদের চিকিৎসক প্রতিকার সম্পর্কে

বিষয়, লেখার শিরোনাম অথবা চিকিৎসকের নাম

লেখাটি সহজ বাংলায় লিখুন, তথ্যের সূত্র উল্লেখ করুন এবং রোগীর ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখুন।

লেখা জমা দেওয়ার নিয়ম ও ফর্ম
ডাক্তারের পরামর্শ

Undescended Testis (আনডিসেন্ডেড টেস্টিস): শিশুর অণ্ডকোষ ভুল স্থানে থাকার সমস্যা, কারণ ও চিকিৎসা

Dr Nahid Uz Zaman১৮ জানুয়ারি ২০২৬ · ৩ মিনিট পড়া

Undescended Testis বা আনডিসেন্ডেড টেস্টিস হলো শিশুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জন্মগত সমস্যা, যেখানে একটি বা দুটি অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে অর্থাৎ অণ্ডথলিতে নেমে আসে না। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে শিশুর অণ্ডকোষ পেটের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে অণ্ডথলিতে নেমে আসে। কোনো কারণে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ না হলে জন্মের পর দেখা যায় শিশুর অণ্ডথলিতে একটি বা দুটি অণ্ডকোষ অনুপস্থিত।

এই সমস্যা জন্মের পরপরই বা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ধরা পড়তে পারে। অনেক অভিভাবক লক্ষ্য করেন যে শিশুর অণ্ডথলি খালি বা অসমান দেখাচ্ছে। কখনো একটি অণ্ডকোষ ঠিক জায়গায় থাকলেও অন্যটি থাকে না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আনডিসেন্ডেড টেস্টিসের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে পারে। এটি কুচকির মধ্যে আটকে থাকতে পারে, পেটের ভেতরে থাকতে পারে অথবা খুব বিরল ক্ষেত্রে জন্মগতভাবেই অণ্ডকোষ অনুপস্থিত থাকতে পারে। অণ্ডকোষ কোথায় আছে এবং কী অবস্থায় আছে তা নির্ণয়ের জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা শিশু সার্জনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। কিছু ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে অণ্ডকোষ নিজে থেকেই নেমে আসতে পারে। এ কারণে সাধারণত শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। যদি ছয় মাসের মধ্যে অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে নেমে না আসে, তাহলে এটিকে আর স্বাভাবিক বলে ধরা হয় না। এই অবস্থায় ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৮ মাস বয়সের মধ্যে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই অপারেশনকে সাধারণত অর্কিওপেক্সি বলা হয়। এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকর শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অণ্ডকোষকে সঠিক জায়গায় অর্থাৎ অণ্ডথলিতে স্থাপন করা হয়। সময়মতো এই অপারেশন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

আনডিসেন্ডেড টেস্টিসের চিকিৎসা না করালে ভবিষ্যতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব। অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকলে তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে না, যা ভবিষ্যতে শুক্রাণু উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে বড় বয়সে গিয়ে সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এই সমস্যায় আক্রান্ত অণ্ডকোষে ক্যান্সারের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে। অণ্ডকোষ যদি ভুল জায়গায় থাকে, তাহলে ক্যান্সার হলে তা সহজে বা দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে হঠাৎ ব্যথা বা মোচড় লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা জরুরি অবস্থার সৃষ্টি করে।

আরও একটি সম্ভাব্য জটিলতা হলো মানসিক ও শারীরিক অস্বস্তি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অণ্ডথলির স্বাভাবিক গঠন না থাকলে শিশুর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টিকে শুধু একটি ছোট শারীরিক সমস্যা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দিকগুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, শিশুর অণ্ডকোষ ভুল স্থানে থাকার সমস্যা অবহেলা করার সুযোগ নেই। যদি আপনার শিশুর বা আশেপাশের কোনো শিশুর অণ্ডথলিতে একটি বা দুটি অণ্ডকোষ অনুপস্থিত মনে হয়, তাহলে দ্রুত একজন যোগ্য শিশু সার্জন বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে শিশুকে ভবিষ্যতের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে।

এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জরুরি অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *